সিলেটের গোয়াইনঘাটে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিরীহ ও অসহায় মানুষের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী দোসর ও কথিত ছাত্রলীগ নেতা জুবের আহমদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ, উদ্বেগ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মাননীয় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও আমলগ্রহণকারী আদালত নং ১০ সিলেটের দায়েরী গোয়াইনঘাট সি.আর ৫৪/২০২৬ ও বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালত সিলেটের গোয়াইনঘাট বিবিধ ৫৬/২০২৬ মামলার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে নিরপরাধ ব্যক্তিদের ফাঁসানো হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যেই এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে যখন উল্লেখিত গোয়াইনঘাট সি.আর ৫৪/২৬ মামলার বাদীর মানিত সাক্ষী এবং প্রতক্ষ দর্শী বিজ্ঞ আদালতে উপস্থিত হয়ে নোটারীকৃত হলফনামার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে জানান, অভিযোগে বর্ণিত কোনো ঘটনাই তার সামনে ঘটেনি। বরং মামলায় যেসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সাক্ষীর এমন বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর মামলার গ্রহণযোগ্যতা ও সত্যতা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া ও ক্ষমতার দাপটে একটি প্রভাবশালী চক্র এলাকায় ভয়ভীতি, সামাজিক অপমান ও মিথ্যা মামলার সংস্কৃতি চালিয়ে আসছে। অতীতে ক্ষমতাসীনদের প্রভাবের কারণে তারা মুখ খুলতে সাহস পাননি। বর্তমানে একই ধারাবাহিকতায় নিরীহ মানুষকে ঘায়েল করতে আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। আরো উল্লেখ করেন যে, কথিত ছাত্রলীগ নামধারী নেতা মোহাম্মদ জুবায়ের আহমদ তার মামা নন্দিরগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালিকের প্রত্যক্ষ মদদে এমন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
তাদের ভাষ্য, এসব মিথ্যা মামলার কারণে পরিবারগুলো চরম মানসিক যন্ত্রণা, সামাজিক হেয়প্রতিপন্নতা ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে। আদালত ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে গিয়ে অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে বলেও জানান তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, যদি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন না করা হয়, তবে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা অবিলম্বে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।