.
প্রতিপক্ষের হামলায় বালাগঞ্জে নিহত ছাত্রদল কর্মী শাহ ইসমাইলের হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার স্বজন ও এলাকাবাসী।
আর জানাজায় উপস্থিত হয়ে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক এই হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। গতকাল শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টায় স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য : গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুড় বাজারে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত শাহ ইসমাইল স্থানীয় কাজিপুর (খারমাপুর) গ্রামের মৃ*ত শাহ কাপ্তান আলীর ৪র্থ ছেলে।
বালাগঞ্জ থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বালাগঞ্জ উপজেলা সদরে কাজিপুর (খারমাপুর) গ্রামের বিএনপি কর্মী শাহ মামুন আলী ও বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি একই এলাকার খারমাপুর গ্রামের বিএনপি নেতা সিরাজুজ্জামান মঙ্গু খার ছেলে হাসানের মধ্যে ঝগড়ার সূত্রপাত হয়।
এ ঘটনার সূত্র ধরে গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপি নেতা সিরাজুজ্জামান মঙ্গু খার ছেলে হাসান বোয়ালজুড় বাজারে ধারালো অস্ত্র নিয়ে শাহ মামুন আলীকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। এক পর্যায়ে শাহ মামুন আলীকে ধাওয়া করে, তবে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় শাহ মামুন আলী নিরাপদ স্থানে চলে যায়। ইতোমধ্যে মারামারির বিষয়ে সংবাদ পেয়ে রাতে শাহ ইসমাইল তার বড় ভাই শাহ মামুন আলীর খুঁজে বাড়ির পাশের বোয়ালজুড় বাজার ঘটনাস্থলে গেলে প্রতিপক্ষ হাসান ও তার অনুসারীরা তার উপর হামলা চালায়। হামলায় ধারালো অস্ত্রের উপর্যুপুরী আঘাতে মুমূর্ষ শাহ ইসমাইলকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে রাত সাড়ে ১০টায় নিহতের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা ও দাফনে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আব্দুল মালিক ছাড়াও প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনীতিক, আইনজীবী, শিক্ষক সাংবাদিকসহ শত শত শোকাহত এলাকাবাসী শরিক হন। শোকাহত উপস্থিত জনতা নির্মম এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।