
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দাউদিয়া গৌছ উদ্দিন সিনিয়র মাদরাসার ২২৫ বছর পূর্তি ও প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষার্থী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩১ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার, মাদরাসা ময়দানে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
সকাল ৯টায় খতমে কুরআন, খতমে খাজেগান, মীলাদ শরীফ ও দুআর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে। পরবর্তীতে শুভেচ্ছা বিনিময় ও স্মৃতিচারণ, স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, আলোচনা সভা এবং সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ উৎসবের সমাপ্তি হয়।
মাদরাসা গভর্নিং বডির সভাপতি রিয়াজ আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “শিক্ষা একটি জাতির সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। দীর্ঘ ২২৫ বছর ধরে ঐতিহ্যবাহী দাউদিয়া গৌছ উদ্দিন সিনিয়র মাদরাসা দীনি ও আধুনিক সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে সমাজ গঠনে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে। অসংখ্য আলেম, চিন্তাবিদ ও গুণীজন তৈরির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এ অঞ্চলের শিক্ষা, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রসারে প্রশংসনীয় অবদান রাখছে।” তিনি মাদরাসাটির জন্য শুভকামনা জানিয়ে বলেন, দাউদিয়া মাদরাসা যুগ যুগ ধরে জ্ঞান ও আদর্শের আলো ছড়িয়ে দিক।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণমানুষের সংগঠন বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ'র সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী। তিনি বলেন, “দেশের মেধাবী শিক্ষার্থী ও বিশিষ্ট আলেম-উলামা তৈরিতে দাউদিয়া গৌছ উদ্দিন সিনিয়র মাদরাসার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বিশেষ করে আল্লামা হরমুজ উল্লাহ শায়দা (রহ.)-এর মতো মনীষীদের স্মৃতিবিজড়িত এ প্রতিষ্ঠান আমাদের শিক্ষা ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের অন্যতম অংশ।” তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য ও অবদান যেন যুগ যুগ ধরে অম্লান থাকে এবং শিক্ষার্থীরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আদর্শ ধারণ করে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ কামাল উদ্দীন এবং সিনিয়র শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী মাওলানা মো. আব্দুর রশিদ। সহকারী অধ্যাপক (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) সবুর আহমদ চৌধুরী প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন পাঠ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আ খ ম আবু বকর সিদ্দীক, সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক কবি কালাম আজাদ, জালালিয়া সিনিয়র ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জ উ ম আব্দুল মুনইম, হযরত শাহজালাল দারুচ্ছুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. কুতবুল আলম, রাখালগঞ্জ দারুল কুরআন ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. শেহাব উদ্দিন এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টারসের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোমান আহমদ পিপিএম।
এছাড়া সিলেটের জেলা শিক্ষা অফিসার আবু সাঈদ মো. আব্দুল ওয়াদুদ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সাইফ আহমদ, এলাকাবাসীর পক্ষে আতাউর রহমান আতা, শামছুর রহমান শামীম ও বাবরুল হোসেন বাবুলসহ মাদরাসার প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষকমণ্ডলী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
সন্ধ্যায় কারী সাইফুল ইসলামের তিলাওয়াতের মাধ্যমে মনোজ্ঞ ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে বিশিষ্ট নাশিদ শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার কবি মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুল, আহমদ আব্দুল্লাহ, নাশিদ সিরিজ ও স্থানীয় ইসলামি সংগীত শিল্পীরা নাশিদ পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানে এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানগণ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আনজুমানে আল ইসলাহ ও তালামীযে ইসলামিয়ার নেতৃবৃন্দসহ মাদরাসার বিপুল সংখ্যক বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।