সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলামে সংঘর্ষে নিহত যুবক রাসেল আহমদ শাহ হত্যা মামলায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিলেট মহানগর পুলিশের মোগলাবাজার থানায় মামলাটি করেন নিহতের মা মোছাঃ রাজনা বেগম।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে মোগলাবাজার থানাধীন সিলাম চকের বাজার এলাকায় শাহ হুমায়ুনের দোকানের সামনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে রাস্তা আটকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে রাসেলকে হত্যা করে। এ সময় হামলার নির্দেশ ও প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন- সিলাম শেখপাড়ার ফজলু মিয়া (৫৫), আবেদ রাজা (৫৫), ইয়াসিন আহমদ ফাহিম (৩৩), আব্দুস সামাদ (৩০), রনি (৩৫), তানিম আহমদ (২৪), সুমন আলী (৩৪), শহিদ আলী (২৮), কামরান (২৪), মাহবুব (২০), জুবায়ের আহমদ জুবের (২২), রাফি (২০), সালমান (২৫), আহমদুর রহমান সাদেক (৪০), মাছুম (২৫), মহিম (২২), রাজু মিয়া (৫৪), মজাহিদ আলী (৩৭), আলী রুবেল (৩৩) ও গুলি সুয়েব (৫৫); এছাড়া সিলাম নয়াপাড়ার সিরাজুল ইসলাম (৫২) এবং দক্ষিণ সুরমার চান্দাই বনু টিলার উজ্জ্বল মিয়া (৩৫)।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাদীর কম্পিউটার টাইপকৃত এজাহার তার চাচাতো দেবর সুমন শাহের মাধ্যমে থানায় পৌঁছালে পুলিশ তা গ্রহণ করে নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করে। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মোগলাবাজার থানার সাব-ইন্সপেক্টর রাজীব পালকে।
এর আগে, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর সিলাম চকের বাজার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় রাসেল আহমদ শাহ গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের দাবি, পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘর্ষের মধ্যে তিনি হামলার শিকার হন। পরে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আফজাল হোসেন বলেন, নিহতের মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।