
.
ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া বা বিশ্বব্যাপী হয়ে যাওয়া করোনা ভাইরাসের মহামারীর চেয়ে বাংলাদেশে সড়ক দু-র্ঘটনায় মৃ ত্যুর হার অনেক বেশি__ মাওলানা মুজতবা হাসান চৌধুরী নোমান।
প্রতিবছর হাজার হাজার তাজা প্রা ণ ঝরে পড়ে। কিন্তু আমাদের কাছে এটা কেবল সরকারি নথির সংখ্যা। কার্যকর পদক্ষেপ নেই।
সড়ক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে কিছু সিন্ডিকেট মরিয়া হয়ে ওঠে, ধর্ম ঘ ট ডাকে। বাংলাদেশে সরকারি বাস সার্ভিস চালু করতেও বারবার বাধার মুখে পড়তে হয়। শাস্তি প্রয়োগেও এদেশে ঝামেলা!
একবার এক মহিলাকে তার নিজের বাড়ির সামনে ট্রাক পিষে দিলে চালকের শাস্তি হয়েছিল। কিন্তু ট্রাক মালিক-শ্রমিক সমিতি ধর্মঘট ডেকে সেই শাস্তি মওকুফ করিয়ে নিয়েছিল। (এরকম হাজারো ঘটনা আছে)
বাংলাদেশে নিয়ম-নীতি, হাইওয়ে কোড, রোড সাইন—সবই কাগজে। অধিকাংশ রোড ইউ জা র সঠিক নিয়ম জানেন না, যারা জানেন তারা মানেন না। জে ব্রা ক্রসিং স্কুলে শিখেছি, বইয়ের পাতায় দেখেছি , বাস্তব ব্যবহার ইউকে এসে দেখেছি , বাংলাদেশে এর ব্যবহার কোথাও চোখে পড়ে নি , শুধু ভিআইপি সিগন্যাল দেখতাম , গাড়ি থেমে থাকে ভিআইপির জন্যে!
সকলেই ইশ তে হা রে বলেন—হেন করব, তেন করব—কিন্তু বাস্তবে কাজের কাজ খুব কমই হয়। শেষ পর্যন্ত অবস্থা থাকে সেই প্রবাদেই: যে লাউ সেই কদু। মাঝে হাঙ্গামার মধ্যেই আরও
কত তাজা প্রা ণ হারায়, তার হিসাব কেউ রাখে না।
এবারের প্রধানমন্ত্রী এমন একটি দেশ থেকে এসেছেন, যেখানে লাইসেন্স পাওয়ার আগেই প্রভিশনাল লাইসেন্সে পয়েন্ট সিস্টেম চালু থাকে। পথচারী, সাইকেল আরোহী বা নতুন চালক—যদি নিয়ম ভাঙে, সঙ্গে সঙ্গে পয়েন্ট কাটা হয়। পরে স্থায়ী লাইসেন্স পেলেও সেই রেকর্ড থাকে।
সুতরাং, এমন অভিজ্ঞতা যদি বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় প্রয়োগ করা হয়, আশানুরূপ সাফল্য আসতে পারে—ইনশা আল্লাহ।
দয়া করে দেশের সকল জনপ্রতিনিধি এবং আপামর জনসাধারণ এ বিষয়ে এগিয়ে আসুন। প্রয়োজনে কঠোরতা বাড়াতে হবে, কিন্তু আল্লাহর ওয়াস্তে সড়ক ব্যবস্থাপনার দিকে মনোযোগ দিন।
বাংলাদেশে অনেক সময় নানা বাধা-বিপত্তির কারণে কোনো ভালো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা যায় না। দুঃখজনক হলেও সত্য, ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষও সেই বাধার অংশ হয়ে দাঁড়ায়।
যদি এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, প্রতিদিন নতুন প্রা ণ ঝরে যাবে, শোকের বইয়ের পাতা ভারি হবে, কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
পরিসংখ্যান বলে শুধু
২০২৫ সালে সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট 7,369 টি দুর্ঘটনায় 9,754 নি হত ও 15,096 জন আহত হয়েছেন!
দিনে ২৬ জন প্রায়!
২০২৪ সালে ৭,২৯৪ জন মানুষ সড়ক দু-র্ঘটনায় মা রা গেছেন, আহত ১২,০০০-এর বেশি ,
২০২৩ সালে সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৫,০২৪ জনের মৃত্যু, গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৪ জন!
এসব দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে বেপরোয়া গতি, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, সড়কের নির্মাণত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ইত্যাদি
সড়ক দু-র্ঘটনায় মৃ ত্যু ডেঙ্গু বা মহামারীর চেয়ে অনেক বেশি। এটি জাতীয় জরুরি সমস্যা। দয়া করে ক্ষমতাবানেরা প্রজাদের দিকে একটু নজর দিন।
সুরমা দর্পণ ডেস্ক 















