
আসন্ন জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জকিগঞ্জ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও আল ইসলাহ নেতা মাওলানা আব্দুস সবুর। জনসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করা এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্য নিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাওলানা আব্দুস সবুর এর আগে জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময় তিনি সাধারণ মানুষের কাছে একজন সহজ-সরল, জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি এলাকায় একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হন।
তবে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি। বিশেষ করে পর্যাপ্ত আর্থিক বরাদ্দ ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অভাবের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন,
“জকিগঞ্জের মানুষ আমাকে বিপুল ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছিলেন। তাদের ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিদান দিতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ভাইস চেয়ারম্যান পদে পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও কার্যকর ক্ষমতা না থাকায় আমি অনেক ক্ষেত্রে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে পারিনি, যা আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টের বিষয়।”
তিনি আরও বলেন,
“জনগণের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা থেকেই এবং তাদের প্রকৃত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমি এবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলে জকিগঞ্জের উন্নয়ন, অবকাঠামো বৃদ্ধি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের অগ্রগতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবো।”
তিনি জকিগঞ্জবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“অতীতে আপনারা যেভাবে আমাকে ভালোবেসে সমর্থন দিয়েছেন, এবারও সেই সমর্থন ও দোয়া কামনা করছি। আপনাদের ভোট ও সহযোগিতা পেলে আমি একটি আধুনিক, উন্নত ও জনবান্ধব জকিগঞ্জ গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।”
এদিকে, তার প্রার্থীতা ঘোষণার পরপরই জকিগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশ। তার সমর্থকরা মনে করছেন, পূর্বের অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ে শক্তিশালী যোগাযোগ এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততার কারণে তিনি এই নির্বাচনে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হবেন।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জকিগঞ্জে একাধিক প্রার্থী মাঠে নামতে পারেন, যা নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলবে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ, স্থানীয় উন্নয়ন ইস্যু এবং প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ইমেজ—এসব বিষয়ই নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, মাওলানা আব্দুস সবুরের প্রার্থীতা ঘোষণা জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনী মাঠে শেষ পর্যন্ত কী ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে ওঠে এবং জনগণ কাকে তাদের পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে বেছে নেয়।
মোঃ মামুনুর রশিদ 








