
শিক্ষার্থীর জীবনে শৃঙ্খলার গুরুত্ব
তাওহীদ আদিল
শিক্ষার্থী যিনি শিক্ষা গ্রহণ করেন অন্যভাবে বলা যায়, জ্ঞান অর্জনকারী। শিক্ষা জীবন হলো প্রত্যেক মানুষের জীবন গড়ার কাল। আর শৃঙ্খলা হলো নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে উদ্দেশ্য অর্জন করা। এজন্য এ সময়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ হওয়া সবচেয়ে জরুরি। কেননা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কেউ বিশৃঙ্খল থাকলে তার ভবিষ্যৎ অত্যন্ত সুশৃঙ্খল হবে এটা আশা করা যায় না। হাদিস শরীফে রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, “الفتنه اشد من القتل”। অর্থাৎ, “বিশৃঙ্খলা হত্যা অপেক্ষা জঘন্য।”
তাই আমাদের সর্বদা ধারাবাহিকভাবে সকল কার্য সম্পাদন করতে হবে। একজন ছাত্র-ছাত্রীর প্রধান কাজ হলো পড়ালেখা করা। তাই তাকে নিয়মিত স্কুল-মাদরাসায় যেতে হবে, বিকেলে শরীরচর্চা করতে হবে এবং পরিশেষে নিয়ম করে পড়তে বসতে হবে। পাশাপাশি সেদিনের বাড়ির কাজ (Homework) সেদিনই সম্পন্ন করতে হবে।
নিজের দৈনন্দিন কাজ যেমন খাবার খাওয়া, নামাজ আদায় করা, ঘুমানোর আগের প্রস্তুতি, স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি ইত্যাদিও নিজেকেই সঠিক সময়ে সম্পন্ন করতে হবে। মনে রাখবেন, নিজেকে সতেজ রাখার অন্যতম উপায় হলো পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর খাবার। আপনি অসুস্থ হলে স্বাভাবিকভাবেই কোনো কাজ মনোযোগ দিয়ে করতে পারবেন না। সেজন্য নিজের যত্ন নেওয়াও জরুরি।
বাকি থাকল পড়ালেখা। আপনি যদি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করে সারা বছর অবহেলায় কাটিয়ে দেন, পরে পরীক্ষায় খারাপ করলে তার দায়ভার আপনারই। তাই এখন থেকেই নিজের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে নিয়মিত পড়ালেখা করুন।
আমি আগে উল্লেখ করেছি, শিক্ষার্থীদের প্রধান কাজ হলো পড়ালেখা করা। তাই নিজেকে ইন্টারনেট বা গেমের প্রতি আসক্ত না করে পড়ালেখার প্রতি আগ্রহী করুন। অন্যথায় পরবর্তীতে এর মাশুল দিতে হতে পারে।
বিশেষ করে ফরজ ইবাদতের প্রতি লক্ষ্য রাখবেন। কারণ রবের সন্তুষ্টি ছাড়া আপনি দুনিয়ায় যা-ই অর্জন করেন না কেন, তা দুনিয়া ও আখিরাত কোথাও কাজে আসবে না।
সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দ, মনে রাখবেন আপনার একটি পদক্ষেপ আপনার সন্তানের বা ভাই-বোনের জীবন পরিবর্তন করতে পারে। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাকে যে পরিবেশে রাখা হবে, সে অনেকটা সেরকমই হয়ে উঠবে। তাই তারা যেন একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশে পড়ালেখা করতে পারে, সেদিকে অভিভাবকদের বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন।
সুরমা দর্পণ কলাম 








