Dhaka ০৪:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
তালামীযে ইসলামিয়া সিলেট মহানগরীর ১৫ নং ওয়ার্ড শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন। বায়েজীদ আহমদ চৌধুরী সভাপতি, জামিল আহমদ মাফি সাধারণ সম্পাদক তালামীযে ইসলামিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন মহসিন আহমদ সভাপতি, আব্দুল বাছিত সাধারণ সম্পাদক ‎ ইউনিভার্সাল আইডিয়াল কলেজে ফল উৎসব ও বৃক্ষরোপণ-২০২৬ সফলভাবে অনুষ্ঠিত.. প্রবাসে ভর্তা উৎসব, বাঙালিয়ানার বন্ধনে কেয়ারারদের মিলনমেল অনুষ্ঠিত মোগলাবাজার থানার অভিযানে হানিট্র্যাপ ছিনতাই চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার ও ছিনতাইকৃত মোবাইল উদ্ধার: ২য় বার শাহজালাল মাজারের দানের ডেগে সারওয়ার আলমের নামে চিরকুট মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রবাসী এমরুল পারভেজ এমরান সৌদিতে নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফেরানো নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তালামীযে ইসলামিয়া সিলেট পশ্চিম জেলা শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন তালামীযের সম্মেলনে পুলিশি হস্তক্ষেপ: জকিগঞ্জ থানার দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ডিআইজি-এসপির কাছে অভিযোগ।

দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে প্রার্থী হওয়া যাবে না—এই আইন বাতিল হওয়া জরুরি। ———–কাউন্সিলার নওশাদ আলী

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু দীর্ঘদিনের বিতর্কিত বিষয় হলো—দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ব্যক্তিরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব ধারণ করেন, তাহলে তিনি সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারান। এই আইন এখন সময়ের দাবি পূরণ করতে ব্যর্থ এবং তা অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা ও বাতিল করা প্রয়োজন।
আজকের বিশ্ব আর সীমাবদ্ধ ভূখণ্ডে আটকে নেই। বিশ্বায়নের এই যুগে লাখো বাংলাদেশি পড়াশোনা, পেশা, ব্যবসা কিংবা স্থায়ী জীবনের প্রয়োজনে বিদেশে বসবাস করছেন। তাঁদের অনেকেই দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন—এটি দেশবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং বাস্তবতার স্বীকৃতি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দ্বৈত নাগরিকত্ব নিলেই কি একজন মানুষের দেশপ্রেম, দেশচিন্তা বা দেশের জন্য কাজ করার অধিকার শেষ হয়ে যায়? উত্তর স্পষ্টভাবে—না।
ইংল্যান্ডের দিকে তাকালেই বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়। যুক্তরাজ্যে দ্বৈত নাগরিকত্ব কোনো বাধা নয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের জন্য। সেখানে পার্লামেন্ট সদস্য, মেয়র, কাউন্সিলর—সব পর্যায়েই দ্বৈত নাগরিকত্বধারী রাজনীতিবিদ রয়েছেন। বিশেষ করে ব্রিটেনে বসবাসরত বাঙালি রাজনীতিবিদদের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রায় সকলেরই দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। তবুও তারা সফলভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখছেন। তাহলে ইংল্যান্ডে যা সম্ভব, বাংলাদেশে তা অসম্ভব কেন?
বাংলাদেশের প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখছেন। রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। শুধু অর্থনৈতিক নয়, প্রবাসীরা জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও আধুনিক প্রশাসনিক ধারণাও সঙ্গে নিয়ে আসেন। যদি এই দক্ষ ও অভিজ্ঞ মানুষদের শুধু দ্বৈত নাগরিকত্বের অজুহাতে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা হয়, তাহলে দেশ নিজেই নিজের সম্ভাবনাকে সংকুচিত করে।
অনেকে যুক্তি দেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। কিন্তু স্বার্থের সংঘাত কোনো নাগরিকত্বের সঙ্গে নয়, বরং নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। একক নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতি বা দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের অসংখ্য উদাহরণ আমাদের আছে। তাই সমস্যার সমাধান নাগরিকত্ব নিষেধাজ্ঞায় নয়, বরং শক্তিশালী আইন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে।
গণতন্ত্রের মূল দর্শন হলো জনগণের পছন্দের অধিকার। জনগণ যদি মনে করে কোনো দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি তাদের জন্য যোগ্য প্রতিনিধি, তাহলে রাষ্ট্রের আইন কেন সেই সিদ্ধান্তে বাধা হয়ে দাঁড়াবে? জনগণই হওয়া উচিত শেষ বিচারক।
সময় এসেছে বাস্তবতা মেনে নেওয়ার। সময় এসেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের শুধু ভোটার নয়, পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে প্রার্থী হওয়া যাবে না—এই আইন একটি বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক বিধান। এটি বাতিল করতে হবে।
ইংল্যান্ডে যদি সম্ভব হয়, বাংলাদেশেও তা অবশ্যই সম্ভব। দরকার শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আধুনিক গণতান্ত্রিক মানসিকতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি রাষ্ট্রের আস্থার স্পষ্ট প্রকাশ। দ্বৈত নাগরিকত্ব কোনো অযোগ্যতার পরিচয় নয়; বরং এটি বিশ্বদর্শন, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার প্রতিফলন। এই আইন বাতিল হলে বাংলাদেশের রাজনীতি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, দক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত হবে। প্রবাসী ও দেশের মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন শক্তিশালী হবে, গণতন্ত্র হবে আরও প্রাণবন্ত। একটি আধুনিক, আত্মবিশ্বাসী ও অগ্রসর বাংলাদেশের জন্য এই সংস্কার শুধু প্রয়োজনীয় নয়—অপরিহার্য।

আরও পড়ুনঃ  তালামীযে ইসলামিয়া সিলেট মহানগরীর ১৫ নং ওয়ার্ড শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন। বায়েজীদ আহমদ চৌধুরী সভাপতি, জামিল আহমদ মাফি সাধারণ সম্পাদক

লেখক: নওশাদ আলী
এনফিল্ড কাউন্সিল, লন্ডন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

তালামীযে ইসলামিয়া সিলেট মহানগরীর ১৫ নং ওয়ার্ড শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন। বায়েজীদ আহমদ চৌধুরী সভাপতি, জামিল আহমদ মাফি সাধারণ সম্পাদক

দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে প্রার্থী হওয়া যাবে না—এই আইন বাতিল হওয়া জরুরি। ———–কাউন্সিলার নওশাদ আলী

আপডেটের সময়: ০৫:৫৭:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু দীর্ঘদিনের বিতর্কিত বিষয় হলো—দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ব্যক্তিরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব ধারণ করেন, তাহলে তিনি সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারান। এই আইন এখন সময়ের দাবি পূরণ করতে ব্যর্থ এবং তা অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা ও বাতিল করা প্রয়োজন।
আজকের বিশ্ব আর সীমাবদ্ধ ভূখণ্ডে আটকে নেই। বিশ্বায়নের এই যুগে লাখো বাংলাদেশি পড়াশোনা, পেশা, ব্যবসা কিংবা স্থায়ী জীবনের প্রয়োজনে বিদেশে বসবাস করছেন। তাঁদের অনেকেই দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন—এটি দেশবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং বাস্তবতার স্বীকৃতি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দ্বৈত নাগরিকত্ব নিলেই কি একজন মানুষের দেশপ্রেম, দেশচিন্তা বা দেশের জন্য কাজ করার অধিকার শেষ হয়ে যায়? উত্তর স্পষ্টভাবে—না।
ইংল্যান্ডের দিকে তাকালেই বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়। যুক্তরাজ্যে দ্বৈত নাগরিকত্ব কোনো বাধা নয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের জন্য। সেখানে পার্লামেন্ট সদস্য, মেয়র, কাউন্সিলর—সব পর্যায়েই দ্বৈত নাগরিকত্বধারী রাজনীতিবিদ রয়েছেন। বিশেষ করে ব্রিটেনে বসবাসরত বাঙালি রাজনীতিবিদদের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রায় সকলেরই দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। তবুও তারা সফলভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখছেন। তাহলে ইংল্যান্ডে যা সম্ভব, বাংলাদেশে তা অসম্ভব কেন?
বাংলাদেশের প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখছেন। রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। শুধু অর্থনৈতিক নয়, প্রবাসীরা জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও আধুনিক প্রশাসনিক ধারণাও সঙ্গে নিয়ে আসেন। যদি এই দক্ষ ও অভিজ্ঞ মানুষদের শুধু দ্বৈত নাগরিকত্বের অজুহাতে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা হয়, তাহলে দেশ নিজেই নিজের সম্ভাবনাকে সংকুচিত করে।
অনেকে যুক্তি দেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। কিন্তু স্বার্থের সংঘাত কোনো নাগরিকত্বের সঙ্গে নয়, বরং নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। একক নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতি বা দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের অসংখ্য উদাহরণ আমাদের আছে। তাই সমস্যার সমাধান নাগরিকত্ব নিষেধাজ্ঞায় নয়, বরং শক্তিশালী আইন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে।
গণতন্ত্রের মূল দর্শন হলো জনগণের পছন্দের অধিকার। জনগণ যদি মনে করে কোনো দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি তাদের জন্য যোগ্য প্রতিনিধি, তাহলে রাষ্ট্রের আইন কেন সেই সিদ্ধান্তে বাধা হয়ে দাঁড়াবে? জনগণই হওয়া উচিত শেষ বিচারক।
সময় এসেছে বাস্তবতা মেনে নেওয়ার। সময় এসেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের শুধু ভোটার নয়, পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে প্রার্থী হওয়া যাবে না—এই আইন একটি বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক বিধান। এটি বাতিল করতে হবে।
ইংল্যান্ডে যদি সম্ভব হয়, বাংলাদেশেও তা অবশ্যই সম্ভব। দরকার শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আধুনিক গণতান্ত্রিক মানসিকতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি রাষ্ট্রের আস্থার স্পষ্ট প্রকাশ। দ্বৈত নাগরিকত্ব কোনো অযোগ্যতার পরিচয় নয়; বরং এটি বিশ্বদর্শন, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার প্রতিফলন। এই আইন বাতিল হলে বাংলাদেশের রাজনীতি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, দক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত হবে। প্রবাসী ও দেশের মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন শক্তিশালী হবে, গণতন্ত্র হবে আরও প্রাণবন্ত। একটি আধুনিক, আত্মবিশ্বাসী ও অগ্রসর বাংলাদেশের জন্য এই সংস্কার শুধু প্রয়োজনীয় নয়—অপরিহার্য।

আরও পড়ুনঃ  তালামীযে ইসলামিয়া সিলেট মহানগরীর ১৫ নং ওয়ার্ড শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন। বায়েজীদ আহমদ চৌধুরী সভাপতি, জামিল আহমদ মাফি সাধারণ সম্পাদক

লেখক: নওশাদ আলী
এনফিল্ড কাউন্সিল, লন্ডন।