Dhaka ১১:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
তালামীযে ইসলামিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন মহসিন আহমদ সভাপতি, আব্দুল বাছিত সাধারণ সম্পাদক ‎ ইউনিভার্সাল আইডিয়াল কলেজে ফল উৎসব ও বৃক্ষরোপণ-২০২৬ সফলভাবে অনুষ্ঠিত.. প্রবাসে ভর্তা উৎসব, বাঙালিয়ানার বন্ধনে কেয়ারারদের মিলনমেল অনুষ্ঠিত মোগলাবাজার থানার অভিযানে হানিট্র্যাপ ছিনতাই চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার ও ছিনতাইকৃত মোবাইল উদ্ধার: ২য় বার শাহজালাল মাজারের দানের ডেগে সারওয়ার আলমের নামে চিরকুট মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রবাসী এমরুল পারভেজ এমরান সৌদিতে নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফেরানো নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তালামীযে ইসলামিয়া সিলেট পশ্চিম জেলা শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন তালামীযের সম্মেলনে পুলিশি হস্তক্ষেপ: জকিগঞ্জ থানার দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ডিআইজি-এসপির কাছে অভিযোগ। কানাইঘাটে নিজ মাদ্রাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত সাবেক এমপি মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী রাহিমাহুল্লাহ; জানাজায় জনতার ঢল
রোজার সফলতা তখনই অর্জিত হয়, যখন এর প্রভাব সাময়িক না হয়ে স্থায়ী হয়—যখন ইফতারের পরও আমাদের চরিত্রে সংযম, সততা ও ন্যায়বোধ অটুট থাকে। যদি রোজা আমাদের চিন্তা ও কর্মে ইতিবাচক পরিবর্তন না আনে, তবে তা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থেকে যায়।

রোজার প্রকৃত শিক্ষা: আত্মসংযম থেকে আত্মশুদ্ধি

  • সম্পাদক
  • আপডেটের সময়: ০৮:২২:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৩৪ সময় দেখুন

.
রোজা শুধু খানাপিনা থেকে বিরত থাকার নাম নয়; এটি আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক পরিশুদ্ধতার এক মহৎ সাধনা। বাহ্যিক অনাহারের মধ্য দিয়ে মানুষ যে শিক্ষা গ্রহণ করে, তার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো অন্তরের পরিশুদ্ধতা অর্জন এবং জীবনাচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন:
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।”
— সূরা আল-বাকারা, ২:১৮৩
এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয় যে রোজার মূল লক্ষ্য হলো তাকওয়া—অর্থাৎ আল্লাহভীতি, আত্মসংযম ও নৈতিক সচেতনতা। কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করাই রোজার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নয়; বরং পাপ থেকে বিরত থাকা এবং চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করাই এর আসল লক্ষ্য।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
“যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও সে অনুযায়ী আমল ত্যাগ করতে পারে না, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।”
— সহিহ বুখারি
এই হাদিসে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, রোজার প্রকৃত তাৎপর্য আচরণে পরিবর্তন আনা। শুধু উপবাস করলেই রোজার পূর্ণতা অর্জিত হয় না; বরং মিথ্যা, গীবত, অন্যায় ও অবিচার থেকে বিরত থাকাই এর আসল শিক্ষা।
অন্য এক হাদিসে রাসুল ﷺ বলেন:
“রোজা একটি ঢাল।”
— সহিহ বুখারি ও মুসলিম
ঢাল যেমন মানুষকে আঘাত থেকে রক্ষা করে, তেমনি রোজা মানুষকে পাপ ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করে। রোজা আমাদের রাগ সংযত রাখতে, মানুষের অধিকার রক্ষা করতে এবং ন্যায়পরায়ণতার পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে।
অতএব, রোজার সফলতা তখনই অর্জিত হয়, যখন এর প্রভাব সাময়িক না হয়ে স্থায়ী হয়—যখন ইফতারের পরও আমাদের চরিত্রে সংযম, সততা ও ন্যায়বোধ অটুট থাকে। যদি রোজা আমাদের চিন্তা ও কর্মে ইতিবাচক পরিবর্তন না আনে, তবে তা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থেকে যায়।
রোজার প্রকৃত শিক্ষা হলো পাপাচার ও অন্যায় থেকে নিজেকে বিরত রেখে আত্মশুদ্ধির পথে অগ্রসর হওয়া। এই শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যই কল্যাণকর। রোজার চেতনা আমাদের জীবনে তাকওয়া, নৈতিকতা ও মানবিকতার স্থায়ী ভিত্তি স্থাপন করুক—এই কামনাই সবার।
সম্পাদক; সুহেল আহমদ

আরও পড়ুনঃ  তালামীযে ইসলামিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন মহসিন আহমদ সভাপতি, আব্দুল বাছিত সাধারণ সম্পাদক ‎
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

তালামীযে ইসলামিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন মহসিন আহমদ সভাপতি, আব্দুল বাছিত সাধারণ সম্পাদক ‎

রোজার সফলতা তখনই অর্জিত হয়, যখন এর প্রভাব সাময়িক না হয়ে স্থায়ী হয়—যখন ইফতারের পরও আমাদের চরিত্রে সংযম, সততা ও ন্যায়বোধ অটুট থাকে। যদি রোজা আমাদের চিন্তা ও কর্মে ইতিবাচক পরিবর্তন না আনে, তবে তা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থেকে যায়।

রোজার প্রকৃত শিক্ষা: আত্মসংযম থেকে আত্মশুদ্ধি

আপডেটের সময়: ০৮:২২:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

.
রোজা শুধু খানাপিনা থেকে বিরত থাকার নাম নয়; এটি আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক পরিশুদ্ধতার এক মহৎ সাধনা। বাহ্যিক অনাহারের মধ্য দিয়ে মানুষ যে শিক্ষা গ্রহণ করে, তার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো অন্তরের পরিশুদ্ধতা অর্জন এবং জীবনাচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন:
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।”
— সূরা আল-বাকারা, ২:১৮৩
এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয় যে রোজার মূল লক্ষ্য হলো তাকওয়া—অর্থাৎ আল্লাহভীতি, আত্মসংযম ও নৈতিক সচেতনতা। কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করাই রোজার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নয়; বরং পাপ থেকে বিরত থাকা এবং চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করাই এর আসল লক্ষ্য।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
“যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও সে অনুযায়ী আমল ত্যাগ করতে পারে না, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।”
— সহিহ বুখারি
এই হাদিসে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, রোজার প্রকৃত তাৎপর্য আচরণে পরিবর্তন আনা। শুধু উপবাস করলেই রোজার পূর্ণতা অর্জিত হয় না; বরং মিথ্যা, গীবত, অন্যায় ও অবিচার থেকে বিরত থাকাই এর আসল শিক্ষা।
অন্য এক হাদিসে রাসুল ﷺ বলেন:
“রোজা একটি ঢাল।”
— সহিহ বুখারি ও মুসলিম
ঢাল যেমন মানুষকে আঘাত থেকে রক্ষা করে, তেমনি রোজা মানুষকে পাপ ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করে। রোজা আমাদের রাগ সংযত রাখতে, মানুষের অধিকার রক্ষা করতে এবং ন্যায়পরায়ণতার পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে।
অতএব, রোজার সফলতা তখনই অর্জিত হয়, যখন এর প্রভাব সাময়িক না হয়ে স্থায়ী হয়—যখন ইফতারের পরও আমাদের চরিত্রে সংযম, সততা ও ন্যায়বোধ অটুট থাকে। যদি রোজা আমাদের চিন্তা ও কর্মে ইতিবাচক পরিবর্তন না আনে, তবে তা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থেকে যায়।
রোজার প্রকৃত শিক্ষা হলো পাপাচার ও অন্যায় থেকে নিজেকে বিরত রেখে আত্মশুদ্ধির পথে অগ্রসর হওয়া। এই শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যই কল্যাণকর। রোজার চেতনা আমাদের জীবনে তাকওয়া, নৈতিকতা ও মানবিকতার স্থায়ী ভিত্তি স্থাপন করুক—এই কামনাই সবার।
সম্পাদক; সুহেল আহমদ

আরও পড়ুনঃ  তালামীযে ইসলামিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন মহসিন আহমদ সভাপতি, আব্দুল বাছিত সাধারণ সম্পাদক ‎