Dhaka ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আশ্বাস এমপি আলহাজ্ব আব্দুল মালিক ও দক্ষিণ সুরমা জামাত। সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হতে চান সিলেটের এড. রোকশানা বেগম শাহনাজ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ জনসচেতনতা মূলক বার্তা দিলেন ডা. অলিউডর রহমান। ২০২৬ সেশনের জন্য ছাত্রশিবির, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেটআপ সম্পন্ন হয়েছে। মদীনা মার্কেটে জামায়াতের রামাদ্বান ফুডপ্যাক বিতরণ। সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন _সভাপতি গোলজার, সম্পাদক সাইফুর। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা – বকেয়া ১৮ হাজার টাকা বিলের জন্য ১৬ ঘন্টা আটকে আছে লা/শ দেশ ছেড়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। কোটার ভিত্তিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী হতে পারেন তামিম ইকবাল, মন্ত্রী হতে পারেন সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক

অনিয়ম, দূর্নীতি আর হয়রানিতে অতিষ্ঠ জকিগঞ্জের পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০২:২২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪
  • ২৯১ সময় দেখুন

জকিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের অনিয়ম, দূর্নীতি আর হয়রানিতে অতিষ্ঠ গ্রাহকরা। প্রায় ৮ মাস যাবৎ জামানত নেওয়ার পরও নতুন বিদ্যুত সংযোগ বন্ধ রয়েছে। কিন্তু টাকা দিলে দালালরা পুরাতন সার্ভিস ড্রপ লাইন সংগ্রহ করে সংযোগ দিচ্ছেন। এ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন মনগড়া মত তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রাহকসেবা দুরের কথা নানাভাবে গ্রাহকরা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। সেবা দিতে না পারলেও রীতিমতো রাজনীতি ও অধিকার আদায়ের নামে বিভিন্ন আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই অফিসের কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি সারাদেশে বিদ্যুত সার্টডাউনের মাধ্যমে জনগনকে জিম্মি করে দাবী আদায়ের আন্দোলনে সিলেট জেলার নেতৃত্ব দেন জকিগঞ্জ জোনাল অফিসের ইঞ্জিনিয়ার জামাল আহমদ। পরবর্তিতে ছাত্র-জনতার রোষানল থেকে বাচার জন্য তিনি কর্মস্থলে পলাতক থাকার কারনে জকিগঞ্জে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া ঐ আন্দোলনে মহিলা কর্মীদের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন বিলিং শাখার সহকারি তাহমিনা আক্তার। তিনিও বহুদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওযার পর যোগদান করেন। অভিযোগ রয়েছে তাহমিনা আক্তার তার বিলিং টেবিলের সামনে নিদন বিশ্বাস নামের স্থানীয় এক দালাল নিয়োগ দিয়ে রেখেছেন, যার মাধ্যমে তিনি টাকার বিনিময়ে গ্রাহকদের মিটার স্থানান্তর, ওয়ান পয়েন্ট ফরমে তথ্য দানে টাকার পরিমান কমিয়ে দেন।

আরও পড়ুনঃ  সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হতে চান সিলেটের এড. রোকশানা বেগম শাহনাজ

জকিগঞ্জ জোনাল অফিসে এখন টাকা ছাড়া ফাইল নড়ছে না। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, আবাসিক, বাণিজ্যিক সহ নতুন সংযোগ ও মিটার স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলছে। সুলতানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এক গ্রাহক বলেন, মিটার স্থানান্তরের আবেদন নিয়ে অফিসে গেলে দালাল এসে জানায় ১৫০০ টাকা দিলে মিটার স্থানান্তর করা যাবে। এই চুক্তিতে রাজী না হওয়ায় ঐ গ্রাহক মিটার স্থানান্তর আবেদন ফরম পর্যন্ত পাননি।

আরও পড়ুনঃ  প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ জনসচেতনতা মূলক বার্তা দিলেন ডা. অলিউডর রহমান।

পল্লী বিদ্যুতের ওয়ারিং কাজ পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকা পিউসী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন কাজের বুয়াকে ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। তার অবর্তমানে জকিগঞ্জের গ্রাহকদের এই সেবা থেকে ব্যাহত হচ্ছে। জকিগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, প্রায় ৪ মাস পূর্বে মিটার স্থানান্তরের আবেদন করেছিলাম, কিন্তু ওয়ারিং পরিদর্শক না থাকার কারনে আমার আবেদন অনুমোদন হয়নি। যার কারনে আজোও আমার মিটার স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

কাজলসার ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের গ্রাহক মামুন বলেন, ৮ মাস পূর্বে সকল নিয়ম মেনে জামানতের টাকা জমা দেওয়ার পরও আমার মিটার পাচ্ছি না। অতচ, পাশ্ববর্তী বাড়িতে টাকার বিনিময়ে বিদ্যুত সংযোগ দেয়া হয়েছে। অফিসে যোগাযোগ করলে বলা হয়, সিরিয়াল আসলে মিটার সংযোগ দেয়া হবে। এই সিরিয়াল কবে আসবে আল্লাহ মালুম। একই অভিযোগ বিরশ্রী ইউনিয়নের আব্দুর রহমান, আটগ্রামের হাসান আহমদের।

আরও পড়ুনঃ  প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ জনসচেতনতা মূলক বার্তা দিলেন ডা. অলিউডর রহমান।

পল্লীবিদ্যুত অফিস সুত্রে জানা যায়, ওয়ারিং পরিদর্শক রজব আলী ১০ মাস থেকে যোগদান করে অফিসিয়াল খাতায় স্বাক্ষর করলেও কার্যত কোনো কাজ করছেন না। ফলে ভোগান্তির শেষ নেই।

এ ব্যাপারে জকিগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, পিউসী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন অসুস্থতা জনিত কারনে ৫ দিনের ছুটি নিয়েছিলেন, কিন্তু আর যোগদান করেন নি। তার কাজ হচ্ছে ওয়ারিং কাজের সুপারভিশন করা। তিনি না থাকলেও অন্য কর্মকর্তারা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ইঞ্জিনিয়ার জামাল আহমদও ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটিতে আছেন। জকিগঞ্জে কোনো গ্রাহক হয়রানির শিকার হচ্ছে না।

জনপ্রিয় পোস্ট

ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আশ্বাস এমপি আলহাজ্ব আব্দুল মালিক ও দক্ষিণ সুরমা জামাত।

অনিয়ম, দূর্নীতি আর হয়রানিতে অতিষ্ঠ জকিগঞ্জের পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা

আপডেটের সময়: ০২:২২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪

জকিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের অনিয়ম, দূর্নীতি আর হয়রানিতে অতিষ্ঠ গ্রাহকরা। প্রায় ৮ মাস যাবৎ জামানত নেওয়ার পরও নতুন বিদ্যুত সংযোগ বন্ধ রয়েছে। কিন্তু টাকা দিলে দালালরা পুরাতন সার্ভিস ড্রপ লাইন সংগ্রহ করে সংযোগ দিচ্ছেন। এ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন মনগড়া মত তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রাহকসেবা দুরের কথা নানাভাবে গ্রাহকরা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। সেবা দিতে না পারলেও রীতিমতো রাজনীতি ও অধিকার আদায়ের নামে বিভিন্ন আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই অফিসের কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি সারাদেশে বিদ্যুত সার্টডাউনের মাধ্যমে জনগনকে জিম্মি করে দাবী আদায়ের আন্দোলনে সিলেট জেলার নেতৃত্ব দেন জকিগঞ্জ জোনাল অফিসের ইঞ্জিনিয়ার জামাল আহমদ। পরবর্তিতে ছাত্র-জনতার রোষানল থেকে বাচার জন্য তিনি কর্মস্থলে পলাতক থাকার কারনে জকিগঞ্জে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া ঐ আন্দোলনে মহিলা কর্মীদের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন বিলিং শাখার সহকারি তাহমিনা আক্তার। তিনিও বহুদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওযার পর যোগদান করেন। অভিযোগ রয়েছে তাহমিনা আক্তার তার বিলিং টেবিলের সামনে নিদন বিশ্বাস নামের স্থানীয় এক দালাল নিয়োগ দিয়ে রেখেছেন, যার মাধ্যমে তিনি টাকার বিনিময়ে গ্রাহকদের মিটার স্থানান্তর, ওয়ান পয়েন্ট ফরমে তথ্য দানে টাকার পরিমান কমিয়ে দেন।

আরও পড়ুনঃ  সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হতে চান সিলেটের এড. রোকশানা বেগম শাহনাজ

জকিগঞ্জ জোনাল অফিসে এখন টাকা ছাড়া ফাইল নড়ছে না। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, আবাসিক, বাণিজ্যিক সহ নতুন সংযোগ ও মিটার স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলছে। সুলতানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এক গ্রাহক বলেন, মিটার স্থানান্তরের আবেদন নিয়ে অফিসে গেলে দালাল এসে জানায় ১৫০০ টাকা দিলে মিটার স্থানান্তর করা যাবে। এই চুক্তিতে রাজী না হওয়ায় ঐ গ্রাহক মিটার স্থানান্তর আবেদন ফরম পর্যন্ত পাননি।

আরও পড়ুনঃ  প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ জনসচেতনতা মূলক বার্তা দিলেন ডা. অলিউডর রহমান।

পল্লী বিদ্যুতের ওয়ারিং কাজ পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকা পিউসী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন কাজের বুয়াকে ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। তার অবর্তমানে জকিগঞ্জের গ্রাহকদের এই সেবা থেকে ব্যাহত হচ্ছে। জকিগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, প্রায় ৪ মাস পূর্বে মিটার স্থানান্তরের আবেদন করেছিলাম, কিন্তু ওয়ারিং পরিদর্শক না থাকার কারনে আমার আবেদন অনুমোদন হয়নি। যার কারনে আজোও আমার মিটার স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

কাজলসার ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের গ্রাহক মামুন বলেন, ৮ মাস পূর্বে সকল নিয়ম মেনে জামানতের টাকা জমা দেওয়ার পরও আমার মিটার পাচ্ছি না। অতচ, পাশ্ববর্তী বাড়িতে টাকার বিনিময়ে বিদ্যুত সংযোগ দেয়া হয়েছে। অফিসে যোগাযোগ করলে বলা হয়, সিরিয়াল আসলে মিটার সংযোগ দেয়া হবে। এই সিরিয়াল কবে আসবে আল্লাহ মালুম। একই অভিযোগ বিরশ্রী ইউনিয়নের আব্দুর রহমান, আটগ্রামের হাসান আহমদের।

আরও পড়ুনঃ  প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ জনসচেতনতা মূলক বার্তা দিলেন ডা. অলিউডর রহমান।

পল্লীবিদ্যুত অফিস সুত্রে জানা যায়, ওয়ারিং পরিদর্শক রজব আলী ১০ মাস থেকে যোগদান করে অফিসিয়াল খাতায় স্বাক্ষর করলেও কার্যত কোনো কাজ করছেন না। ফলে ভোগান্তির শেষ নেই।

এ ব্যাপারে জকিগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, পিউসী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন অসুস্থতা জনিত কারনে ৫ দিনের ছুটি নিয়েছিলেন, কিন্তু আর যোগদান করেন নি। তার কাজ হচ্ছে ওয়ারিং কাজের সুপারভিশন করা। তিনি না থাকলেও অন্য কর্মকর্তারা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ইঞ্জিনিয়ার জামাল আহমদও ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটিতে আছেন। জকিগঞ্জে কোনো গ্রাহক হয়রানির শিকার হচ্ছে না।