
.
মার্কা নয়, প্রার্থীই হোক ভোটের মানদণ্ড
একটি রাষ্ট্রের মূল শক্তি তার সচেতন নাগরিক ও দায়িত্বশীল ভোটার। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে ভোটের ক্ষেত্রে ব্যক্তির যোগ্যতা নয়, বরং দলীয় প্রতীক বা “মার্কা”ই মুখ্য হয়ে উঠেছে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রেই অযোগ্য, অদক্ষ কিংবা জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হচ্ছেন, যা রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য শুভ লক্ষণ নয়।
ভোট কোনো আবেগের বিষয় নয়; এটি একটি দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত। একজন জনপ্রতিনিধি কেবল একটি দলের প্রতিনিধি নন—তিনি পুরো এলাকার মানুষের কণ্ঠস্বর। তাঁর সততা, দক্ষতা, জনসম্পৃক্ততা ও কাজ করার সক্ষমতাই হওয়া উচিত ভোট দেওয়ার প্রধান মানদণ্ড। কিন্তু আমরা যখন অন্ধভাবে মার্কা দেখে ভোট দিই, তখন নিজের অধিকারকেই নিজের হাতে দুর্বল করে দিই।
ন্যায়ভিত্তিক ও ন্যায্য সমাজ গড়তে হলে প্রথম শর্ত হলো যোগ্য নেতৃত্ব। যোগ্য নেতৃত্ব মানে এমন মানুষ, যিনি জনগণের কথা শোনেন, জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং এলাকার বাস্তব সমস্যার সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করেন। এই গুণগুলো কোনো মার্কার মধ্যে নেই—এগুলো থাকে মানুষের মধ্যে।
বাংলাদেশের আগামীর রাজনীতি যদি সত্যিই জনকল্যাণমুখী হতে চায়, তবে ভোটারদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতেই হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর পরিচয়ের বাইরে গিয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা, পূর্বের কাজের রেকর্ড, নৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মূল্যায়ন করা জরুরি। জবাবদিহি তখনই শক্তিশালী হয়, যখন ভোটার প্রশ্ন করে, বিচার করে এবং সচেতন সিদ্ধান্ত নেয়।
আমাদের মনে রাখতে হবে—একটি ভুল ভোট পাঁচ বছরের ভোগান্তির কারণ হতে পারে। আবার একটি সঠিক ভোট একটি এলাকার ভাগ্য বদলে দিতে পারে। তাই সময় এসেছে “মার্কা” কেন্দ্রিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে “যোগ্যতা” কেন্দ্রিক ভোট সংস্কৃতি গড়ে তোলার।
কাজ করবে প্রার্থী, মার্কা নয়—এই বোধ যদি সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়, তবেই আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও সুন্দর আগামীর বাংলাদেশ গড়ার পথে এগোতে পারব। ভোট হোক বিবেকের, সচেতনতার এবং দায়িত্বের—অন্ধ আনুগত্যের নয়।
সম্পাদকীয়–
সম্পাদকীয় 








