Dhaka ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বকেয়া ১৮ হাজার টাকা বিলের জন্য ১৬ ঘন্টা আটকে আছে লা/শ দেশ ছেড়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। কোটার ভিত্তিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী হতে পারেন তামিম ইকবাল, মন্ত্রী হতে পারেন সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক রোজার প্রকৃত শিক্ষা: আত্মসংযম থেকে আত্মশুদ্ধি বিকাশ, রকেট, নগদে এক হাজার টাকার বেশি পাঠানো যাবে না, বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ভোট হোক বিবেকের, সচেতনতার এবং দায়িত্বের—অন্ধ আনুগত্যের নয়। চ্যারিটি বোট রেইসের ৫ম বার্ষিকির প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত সিলেটে জাতীয়তাবাদী উন্মুক্ত মঞ্চ এর দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। জকিগঞ্জে আগুনে পোড়া লাশ সুনামগঞ্জের যুক্তরাজ্য প্রবাসী বুরহান উদ্দিন শফি’র! ফজরের নামাজ পরেই ভোট সেন্টারে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর আহ্বান মুক্তাদিরের
রোজার সফলতা তখনই অর্জিত হয়, যখন এর প্রভাব সাময়িক না হয়ে স্থায়ী হয়—যখন ইফতারের পরও আমাদের চরিত্রে সংযম, সততা ও ন্যায়বোধ অটুট থাকে। যদি রোজা আমাদের চিন্তা ও কর্মে ইতিবাচক পরিবর্তন না আনে, তবে তা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থেকে যায়।

রোজার প্রকৃত শিক্ষা: আত্মসংযম থেকে আত্মশুদ্ধি

  • সম্পাদক
  • আপডেটের সময়: ০৮:২২:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩৩ সময় দেখুন

.
রোজা শুধু খানাপিনা থেকে বিরত থাকার নাম নয়; এটি আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক পরিশুদ্ধতার এক মহৎ সাধনা। বাহ্যিক অনাহারের মধ্য দিয়ে মানুষ যে শিক্ষা গ্রহণ করে, তার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো অন্তরের পরিশুদ্ধতা অর্জন এবং জীবনাচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন:
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।”
— সূরা আল-বাকারা, ২:১৮৩
এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয় যে রোজার মূল লক্ষ্য হলো তাকওয়া—অর্থাৎ আল্লাহভীতি, আত্মসংযম ও নৈতিক সচেতনতা। কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করাই রোজার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নয়; বরং পাপ থেকে বিরত থাকা এবং চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করাই এর আসল লক্ষ্য।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
“যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও সে অনুযায়ী আমল ত্যাগ করতে পারে না, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।”
— সহিহ বুখারি
এই হাদিসে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, রোজার প্রকৃত তাৎপর্য আচরণে পরিবর্তন আনা। শুধু উপবাস করলেই রোজার পূর্ণতা অর্জিত হয় না; বরং মিথ্যা, গীবত, অন্যায় ও অবিচার থেকে বিরত থাকাই এর আসল শিক্ষা।
অন্য এক হাদিসে রাসুল ﷺ বলেন:
“রোজা একটি ঢাল।”
— সহিহ বুখারি ও মুসলিম
ঢাল যেমন মানুষকে আঘাত থেকে রক্ষা করে, তেমনি রোজা মানুষকে পাপ ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করে। রোজা আমাদের রাগ সংযত রাখতে, মানুষের অধিকার রক্ষা করতে এবং ন্যায়পরায়ণতার পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে।
অতএব, রোজার সফলতা তখনই অর্জিত হয়, যখন এর প্রভাব সাময়িক না হয়ে স্থায়ী হয়—যখন ইফতারের পরও আমাদের চরিত্রে সংযম, সততা ও ন্যায়বোধ অটুট থাকে। যদি রোজা আমাদের চিন্তা ও কর্মে ইতিবাচক পরিবর্তন না আনে, তবে তা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থেকে যায়।
রোজার প্রকৃত শিক্ষা হলো পাপাচার ও অন্যায় থেকে নিজেকে বিরত রেখে আত্মশুদ্ধির পথে অগ্রসর হওয়া। এই শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যই কল্যাণকর। রোজার চেতনা আমাদের জীবনে তাকওয়া, নৈতিকতা ও মানবিকতার স্থায়ী ভিত্তি স্থাপন করুক—এই কামনাই সবার।
সম্পাদক; সুহেল আহমদ

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বকেয়া ১৮ হাজার টাকা বিলের জন্য ১৬ ঘন্টা আটকে আছে লা/শ

রোজার সফলতা তখনই অর্জিত হয়, যখন এর প্রভাব সাময়িক না হয়ে স্থায়ী হয়—যখন ইফতারের পরও আমাদের চরিত্রে সংযম, সততা ও ন্যায়বোধ অটুট থাকে। যদি রোজা আমাদের চিন্তা ও কর্মে ইতিবাচক পরিবর্তন না আনে, তবে তা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থেকে যায়।

রোজার প্রকৃত শিক্ষা: আত্মসংযম থেকে আত্মশুদ্ধি

আপডেটের সময়: ০৮:২২:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

.
রোজা শুধু খানাপিনা থেকে বিরত থাকার নাম নয়; এটি আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক পরিশুদ্ধতার এক মহৎ সাধনা। বাহ্যিক অনাহারের মধ্য দিয়ে মানুষ যে শিক্ষা গ্রহণ করে, তার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো অন্তরের পরিশুদ্ধতা অর্জন এবং জীবনাচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন:
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।”
— সূরা আল-বাকারা, ২:১৮৩
এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয় যে রোজার মূল লক্ষ্য হলো তাকওয়া—অর্থাৎ আল্লাহভীতি, আত্মসংযম ও নৈতিক সচেতনতা। কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করাই রোজার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নয়; বরং পাপ থেকে বিরত থাকা এবং চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করাই এর আসল লক্ষ্য।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
“যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও সে অনুযায়ী আমল ত্যাগ করতে পারে না, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।”
— সহিহ বুখারি
এই হাদিসে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, রোজার প্রকৃত তাৎপর্য আচরণে পরিবর্তন আনা। শুধু উপবাস করলেই রোজার পূর্ণতা অর্জিত হয় না; বরং মিথ্যা, গীবত, অন্যায় ও অবিচার থেকে বিরত থাকাই এর আসল শিক্ষা।
অন্য এক হাদিসে রাসুল ﷺ বলেন:
“রোজা একটি ঢাল।”
— সহিহ বুখারি ও মুসলিম
ঢাল যেমন মানুষকে আঘাত থেকে রক্ষা করে, তেমনি রোজা মানুষকে পাপ ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করে। রোজা আমাদের রাগ সংযত রাখতে, মানুষের অধিকার রক্ষা করতে এবং ন্যায়পরায়ণতার পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে।
অতএব, রোজার সফলতা তখনই অর্জিত হয়, যখন এর প্রভাব সাময়িক না হয়ে স্থায়ী হয়—যখন ইফতারের পরও আমাদের চরিত্রে সংযম, সততা ও ন্যায়বোধ অটুট থাকে। যদি রোজা আমাদের চিন্তা ও কর্মে ইতিবাচক পরিবর্তন না আনে, তবে তা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থেকে যায়।
রোজার প্রকৃত শিক্ষা হলো পাপাচার ও অন্যায় থেকে নিজেকে বিরত রেখে আত্মশুদ্ধির পথে অগ্রসর হওয়া। এই শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যই কল্যাণকর। রোজার চেতনা আমাদের জীবনে তাকওয়া, নৈতিকতা ও মানবিকতার স্থায়ী ভিত্তি স্থাপন করুক—এই কামনাই সবার।
সম্পাদক; সুহেল আহমদ