
সিলেট নগরের উপশহর এলাকায় ‘এমেক্স অ্যাসোসিয়েট’ (Amex Associate) নামক একটি কথিত ট্রাভেল এজেন্সি সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাতারাতি গা-ঢাকা দিয়েছে। বিদেশ পাঠানোর চটকদার বিজ্ঞাপন এবং উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটের শতাধিক যুবকের কাছ থেকে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছেন মিজানুর রহমান মিজান নামে এক যুবলীগ কর্মী। তিনি উক্ত ট্রাভেল এজেন্সির বিভিন্ন প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে যুবকদের আশ্বস্ত করেছিলেন। তার এই ‘অনলাইন আশ্বাসে’ বিশ্বাস করেই মূলত সিংহভাগ ভুক্তভোগী যুবক লাখ লাখ টাকা এই এজেন্সির হাতে তুলে দিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মিজানের বাড়ি সিলেট জেলার মোগলাবাজার থানার দাউদপুর ইউনিয়নের পানিগাঁও গ্রামে। তিনি মৃত আতাউর রহমানের ছেলে। এলাকায় তিনি একজন সক্রিয় যুবলীগ কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গেলে মিজানুর রহমান মিজান নানামুখী সংকটে পড়েন। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর গোলাপগঞ্জ উপজেলার এক যুবদল নেতার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এর জের ধরে গোলাপগঞ্জের ‘মোরাদ গ্রুপ’ নামক একটি পক্ষের নেতাকর্মীদের মারধরের শিকার হন মিজান। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলে গ্রেফতার এড়াতে তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। বর্তমানে তিনি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় তার খালার বাড়িতে অবস্থান করে দূর থেকেই এই প্রতারণা চক্রের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘এমেক্স অ্যাসোসিয়েট’ গত কিছুদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আকর্ষণীয় বেতনে কর্মী প্রেরণের নামে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। ফেসবুকে এজেন্সির পক্ষে দেওয়া বিভিন্ন ভিডিও ও সাক্ষাৎকারে মিজানুর রহমান মিজান নিজেকে অত্যন্ত বিশ্বস্ত হিসেবে উপস্থাপন করেন। যুবকদের আশ্বস্ত করতে তিনি শতভাগ ভিসা নিশ্চিত করার গ্যারান্টিও দেন।
ভুক্তভোগী এক যুবক জানান, “মিজান ভাইয়ের ভিডিও সাক্ষাৎকার দেখে এবং তার কথায় বিশ্বাস করে আমি পাসপোর্ট ও নগদ ৫ লাখ টাকা জমা দিয়েছিলাম। গতকাল (মঙ্গলবার) অফিসে এসে দেখি তালা ঝুলছে। পরিচালকদের মোবাইল নম্বরও বন্ধ।”
চীফ রিপোর্টার। 













